প্রাক-প্রাথমিকে আসছে বড় নিয়োগ

জাতীয়করণ হওয়া দেশের ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি ধাপে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার আওতায় আগামী বছরের শুরুতে এই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২৬ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়ে এ স্তরের শিক্ষক নিয়োগ দিতে চাহিদাপত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে পদসৃজনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পদসৃজন হলে অর্থ ছাড়ের জন্য সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এটির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। জুনের মধ্যে এই নিয়োগ শেষ হবে। এদের শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষক বেতন স্কেলে নিয়োগ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা প্রাক-প্রাথমিকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পদ অনুমোদন হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের জুনের মধ্যেই আমাদের ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে জানুয়ারিতেই এই নিয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন দিতে হবে। এরপর বাকি কাজ শেষ হবে।’

সূত্র জানায়, বর্তমানে জাতীয়করণ হওয়া ২৬ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়ে পিইডিপি-৪ এর আওতাভুক্ত প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রথমে পিইডিপির আওতায় এ শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষে তাদের রাজস্বখাতভুক্ত করা হবে ও প্রাক-প্রাথমিক পদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষক বেতন স্কেলে নিয়োগ দেয়া হবে।

তিন মাস আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক শিক্ষক অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে ২৬ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। এরপর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক পদসৃজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ ছাড়ে পাঠানো হবে।

ডিপিই কর্মকর্তারা জানান, দুটি বোনাসসহ ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হবে। এ অনুযায়ী ৫৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে সারাদেশে নতুন করে ২৬ হাজার ১৫৯ শিক্ষক নিয়োগদানের জন্য।

পিইডিপি-৪ এ মোট এক লাখ শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবনার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, সঙ্গীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক রয়েছে। সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা নিয়োগ পাবেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নিয়োগের পর এক সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যেখানে সব শিক্ষককে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট থাকবে সেখানে শিক্ষকরা সমন্বয় করে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ক্লাস করাবেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯৯টি সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে পুরনো সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৭২টি এবং নতুন জাতীয়করণ হওয়া ২৬ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় রয়েছে।