রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার পরিবেশ মিয়ানমারকেই করতে হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকেই নিজ দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ এবং স্বেচ্ছামূলক। এ লক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করছে। বললেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।
বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দ্রুত সময়ে বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা করবে। কেবলমাত্র শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্যও যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় জনগণের প্রশংসা করেন তিনি।
তিন দিনের সফরের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে যান। সেখানে আরআরআরসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। এরপর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

গেল মঙ্গলবার সকালে বিমানে করে তিন দিনের সফরে কক্সবাজার পৌঁছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ওই দিন বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ির ঘুনধুম তুমব্রু সীমান্তের শুন্য রেখার কোনার পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বালুখালী ট্রানজিট ক্যাম্প, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
গতকাল বুধবার টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া ও শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এসময় তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দ্বায়িত্বরত সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও ইউএসএআইডি এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানে করে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।